মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

রোহিঙ্গানির্যাতন-ইস্যুতে কি বাংলাদেশ ভয়ংকরভাবে অপরাজনীতির ও ষড়যন্ত্রের শিকার হতে যাচ্ছে?


রোহিঙ্গাদের আশ্রয়প্রশ্রয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশের বর্তমান সিদ্ধান্ত:
রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে কারও সমর্থন বা সিদ্ধান্ত পেয়েছে কি? পায়নি। আর বাংলাদেশ এব্যাপারে ভুল করছে নাতো? কারণ—
১. রোহিঙ্গাদের আশ্রয়প্রশ্রয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষে এখনও আন্তর্জাতিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা স্বীকৃতি মেলেনি।
২. জাতিসংঘ রোহিঙ্গা-শরণার্থীদের আশ্রয়প্রশ্রয়ের ব্যাপারে জাতিসংঘের স্বীকৃতি ও মধ্যস্থতার কোনো আভাস দেয়নি। এব্যাপারে জাতিসংঘের দায়িত্বে ও অধীনে কোনোপ্রকার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়নি।
৩. রোহিঙ্গা-শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিশ্বের নীতিগত কোনো সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়নি। বাংলাদেশ আজও জানে না—শরণার্থী হিসাবে বাংলাদেশে আশ্রিত এই রোহিঙ্গারা কবে, কখন, কীভাবে আবার নিজদেশে ফিরবে! কিংবা এরা আদৌ ফিরতে পারবে কিনা?
৪. রোহিঙ্গা-ইস্যুটি দীর্ঘদিনের ও চলমান একটি বড়সড় সমস্যা। কিন্তু রোহিঙ্গা-ইস্যুতে আজ পর্যন্ত জাতিসংঘের কোনো অধিবেশনেই (সাধারণ ও নিরাপত্তা উভয়ই) আলাপ-আলোচনা হয়নি, এবং সমস্যাটি সমাধানের জন্যও কোনো নীতিগত-সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
৫. ভবিষ্যতে জাতিসংঘ কি বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী-রোহিঙ্গাশরণার্থীদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপগ্রহণ করবে? স্বাধীনতার ৪৬বছর পরও বাংলাদেশরাষ্ট্র আটকেপড়া পাকিস্তানীনাগরিক তথা বিহারীদের আজও পাকিস্তানে ফেরত পাঠাতে পারেনি। এখানে, জাতিসংঘ কোনো ভূমিকা রাখেনি—আর রাখবেও না। আর এব্যাপারে বিশ্বসম্প্রদায়ের কেউ কোনো কথা বলেনি। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারেও যদি এমনটি ঘটে! এর দায়দায়িত্ব কে নিবে?
তবে কীসের ভিত্তিতে জঙ্গি-সমস্যাসঙ্কুল রাষ্ট্র বাংলাদেশ এতো-এতো রোহিঙ্গাদের আশ্রয়প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং আরও দিবে? বিশেষ করে এই রোহিঙ্গাদের একটি শ্রেণী জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আবার এদের অনেকেরই রয়েছে অস্ত্রপ্রশিক্ষণ! তাহলে, এই বিপজ্জনক-পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার দায়দায়িত্ব কি শুধুই বাংলাদেশের? আর কারও কোনো দায়দায়িত্ব নাই?
আজকে দেখি, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার জন্য তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ আরও কতিপয় মুসলিমরাষ্ট্র উঠেপড়ে লেগেছে, খুব তোড়জোড় করছে, এবং এরা একেকজন বিশ্বমিডিয়ার সামনে বড়-বড় কথা বলে খুব নেতাগিরি দেখাচ্ছে। কিন্তু এদের মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে কোনো কথা বলছে না। আর এসব ব্যাপারে আমেরিকা, সৌদিআরব, চীন, ভারত, পাকিস্তান একেবারে নীরব ও নিশ্চুপ। তবে সব দায় কি শুধু বাংলাদেশের? আমার মনে হয়: দেশের স্বার্থে আজ এসব ব্যাপারে আরও বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। মিয়ানমার এদের ফেরত নিতে না চাইলে বাংলাদেশ তখন কী করবে? ইতোমধ্যে মিয়ানমার নামক রাষ্ট্রটির সামরিকজান্তা-জারজরা বলেছে, “রোহিঙ্গারা বাঙালি সন্ত্রাসী!” তারা আরও বলেছে, “বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী যে-সব রোহিঙ্গার ‘বার্মার নাগরিকত্বসনদ’ আছে—তারাই শুধু দেশে (মিয়ানমারে) ফিরতে পারবে?” এটা কীভাবে সম্ভব? কারণ, অধিকাংশ রোহিঙ্গারই কোনো নাগরিকত্বসনদ নাই। তার কারণ, সামরিকজান্তারাই তো রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। এখন তারা ঘরবাড়ি ছেড়ে জানের ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছে নাগরিকত্বসনদ চায় কীভাবে? তাই, বলছিলাম আজ যারা গলাবাড়িয়ে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে খুব উসৎসাহ দেখাচ্ছে তখন এইসব ক্ষণিকের মাতবরদের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তখন বাংলাদেশ এতো-এতো রোহিঙ্গাদের কীভাবে পুনর্বাসিত করবে? এব্যাপারে একবার ভেবে দেখেছেন কিছু?
রোহিঙ্গামুসলমানদের নিয়ে বাংলাদেশের কতিপয় ঘাতকসংগঠনসহ বিশ্বব্যাপী ষড়যন্ত্র ও অপরাজনীতি:
১. রোহিঙ্গামুসলমানদের একটি জঙ্গিসংগঠন রয়েছে। এই জঙ্গিসংগঠনের নাম: ‘আরসা অর্গানাইজেশন’। সম্প্রতি এই সংগঠনটি আইএস-জঙ্গিদের সঙ্গে মিলেমিশে মিয়ানমারের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টহলরত পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে ১২জন পুলিশকে হত্যা করেছে। এসব কীসের আলামত? রোহিঙ্গাদের জঙ্গিশ্রেণীটি এখনও অপকর্মে লিপ্ত।
২. অতিসম্প্রতি রোহিঙ্গাদের জঙ্গিসংগঠন ‘আরসা অর্গানাইজেশন’-এর প্রধান-জঙ্গি হাফিজের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দাসংস্থা আইএসআই-এর প্রধানসহ ইরাকের এক আইএস-জঙ্গির ফোনকল রেকর্ড পাওয়া গিয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে এরা বাংলাদেশে জঙ্গিদেরও অনুপ্রবেশ ঘটাতে চায়। এদের এমনই একটি পরিকল্পনা রয়েছে।
৩. মিয়ানমারের কথিত রোহিঙ্গানির্যাতনের বিরুদ্ধে আমেরিকা, চীন, পাকিস্তান, সৌদিআরব একদম নীরব রয়েছে। আর এরা প্রত্যেকে ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনবাংলাদেশরাষ্ট্রের বিরোধিতাকারী। শুধু তুরস্ক সরব। আর তুরস্ক বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়প্রশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে খুব সোচ্চার। কিন্তু আশেপাশে এতো দেশ থাকতে শুধু বাংলাদেশ কেন রোহিঙ্গাদের আশ্রয়প্রশ্রয় দিবে? চীন তো মিয়ানমারের পার্শ্ববর্তীরাষ্ট্র, এবং এরা খুব শক্তিশালী, আর বিশ্বের পাঁচটি পরাশক্তির একটি। তবুও তারা কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করছে

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন